Tuesday, April 24, 2012

সমীক্ষা । সৌরঝড় ২০১২

বিজ্ঞানীরা ধারনা করেন, গত ৮-১০ মার্চ সৌরঝড় পৃথিবীর উর্ধ বায়ুমণ্ডলে এত পরিমান শক্তি ত্যাগ করেছে যে, সমগ্র নিউইয়র্ক শহরের সমস্ত বাসিন্দাদের আগামী দুবছরের ব্যবহৃত বিদ্যুৎশক্তি এই শক্তির সাহায্যে সহজেই মেটানো যেত। নাসার স্যাটেলাইট স্যাবর(SABER) উর্ধ আবহাওয়া মন্ডলের তাপীয়মন্ডলের অবলোহিত বিকিরণ পর্যবেক্ষণ করে, আরো সঠিকভাবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রিক-অক্সাইডের ক্রিয়া নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেছে। উল্লেখ্য, এই দুইটি অক্সাইড তাপীয়মন্ডলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী নিরপেক্ষ স্বয়ংক্রিয় বস্তু হিসেবে সমগ্র জীবজগতকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। এই মণ্ডলের মূল কাজই হল,আগত মহাজাগতিক রশ্মি ও তাপীয় নিঃসরণকে পুনরায় মহাশূন্যে প্রেরন করে তাপীয় ভারসাম্য রক্ষা করা। নাসা’র ভার্জিনিয়াস্থ লাংলেই গবেষণা কেন্দ্রের(Langley Research Center,Varginia,USA) স্যাবর(SABER) স্যাটেলাইট প্রকল্পের সহঃপ্রধান অনুসন্ধানকারী মার্টিন লিঙ্কজাক(Martin Mlyncjak) এর মতে,”২০০৫ সালের সৌরঝড়ের পর এটাই সর্বাধিক সৌর তাপীয় নিঃসরণ ’’তিনি আরও বলেন,”এই বৃহৎ সৌরঝড় আমাদের গ্রহের উপর সৌর কার্যক্রম কেমন প্রভাব ফেলতে পারে তার এক উৎকৃষ্ট উদহারন।

দিগন্ত রেখায় এমনি হতে পারে সৌরঝড়

সর্বশেষ সৌরঝড়ে সূর্য হতে অনেক গুলো এক্স-৫ শ্রেনীর সৌর দীপ্যমান প্লাসমার ঝাপটা আমাদের পৃথিবীর দিকে ৮ মার্চ ছুটে এসেছিল,এ ধরনের প্রবল সৌর ঝাপটা বিজ্ঞানীগন করনাল মাস ইজেক্টশন(Coronal mass ejection-CME) বলা থাকেন। এখানে উল্লেখ্য যে, এই সৌর ঝাপটা গুলোর মাঝে এক্স শ্রেনী সবচেয়ে শক্তিশালী এবং এগুলো সরাসরি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তথা ভূ-চূম্বকীয় ক্ষেত্রে আঘাত হেনেছে। তথাপি এগুলো উর্ধাকাশের যে স্থানেই আঘাত হেনেছে সেখানেই শক্তিশালী কণিকা প্রচণ্ড শক্তি জমা করেছে। এই কারনে মেরু অঞ্ছলে প্রকৃতির অন্যতম বিস্ময়কর সৃষ্টি মেরুজ্যোতি(Polar Aurora) দেখা গিয়েছে এবং উর্ধাকাশের ব্যাপক অংশ জুড়ে তাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। নাসা’র ভার্জিনিয়াস্থ লাংলেই গবেষণা কেন্দ্রের(Langley Research Center,Varginia,USA) স্যাবর(SABER) স্যাটেলাইট প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান এবং হ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জেমস রাসেল এঁর ভাষায়,তাপীয়মণ্ডল যেন ক্রিসমাস ট্রি এর মত জ্বলে উঠেছিল;তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী নিরপেক্ষ স্বয়ংক্রিয় বস্তু অর্থাৎ কার্বন ডাই অক্সাইড ও নাইট্রিক অক্সাইডের ক্রিয়া শুরু হওয়ার সাথে সাথে অবলোহিত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ প্রচণ্ড ভাবে শুরু হয়। ৮-১০ মার্চ এই তিনদিনে, পৃথিবীর তাপীয়মন্ডল প্রায় ২৬ বিলিয়ন কিলোওয়াট শক্তি লাভ করেছে। যার শতকরা ৯৫ শতাংশ মহাশূন্যে তাপীয়মন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড ও নাইট্রিক অক্সাইড দ্বারা পুনঃপ্রেরিত হয়েছে।তবে আগত ৫ শতাংশ কণিকা মূলত অবিমিশ্রিত এবং তা পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার কোন সম্ভবনা নেই।

শিল্পীর তুলিতে সৌরঝড়

যখন এই ঘটনা ঘটছিল তখন উর্ধাকাশের তাপীয়মন্ডল যেন দমকা বাতাসের ন্যায় সৌর ঝাপটা অনুভব করছিল যা কিনা নিচু কক্ষপথ বিশিষ্ট স্যাটেলাইট গুলোকে ক্ষণস্থায়ী সময়ের জন্য টান বৃদ্ধি করেছিল। এই ব্যতিক্রম ঘটনাটির ভাল মন্দ দুটো দিকই আছে। ভাল দিকটি হল,এই বাড়তি টান স্পেস জাঙ্ক পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করেছে। অন্যদিকে, কক্ষপথস্থ স্যাটেলাইট গুলোর দূরত্ব কমিয়ে তাদের জীবনসীমা কমিয়ে দিয়েছে। নাসার বিজ্ঞানীগন আগামী বছরের সৌর চক্র সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করতে যাচ্ছে। সৌরপৃষ্টের sunspot-এ করনাল মাস ইজেক্টশন(Coronal mass ejection-CME) বা সৌর ঝাপটা আরও তীব্র থেকে তীব্রতর হওয়ার সম্ভবনাও দেখা যাচ্ছে যা স্যাবর(SABER) স্যাটেলাইট প্রকল্পের বিজ্ঞানীগনের মতে নজিরবিহীন।

Chemical Xawad