Thursday, October 11, 2012

প্রকৃতি

মানুষের হাস্যকর হাইপারকাব্যিকতা ও হাইপারদার্শনিকতা প্রকৃতি বা নেচার বলে একটা কিছুর অস্তিত্ব ডায়াগ্নোস করেছে। শুধু তাই-ই নয়, প্রকৃতির মধ্যে তারা নারীরুপও দেখে, প্রকৃতিকে তারা মা বলে ডাকে যেনো প্রকৃতি আমাদের খুবই পক্ষাবলম্বনকারী একটা শক্তি। তারা বলে- আসলেইতো তাই, দেখো এই যে সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল আর মিঠা নদীর পানি; বনের মধ্যে সুন্দর সুন্দর বাধ-সিংহ-হরিণ, আকাশ ভর্তি তারা......ইত্যা দি ইত্যাদি, আমাদে
র উদ্দেশ্যে নিজেকে কতোই না সুন্দর করে সাজিয়েছে আমাদের প্রকৃতি মাতা। আসলেই কি প্রকৃতি আমাদের পক্ষাবলম্বনকারী একটি শক্তি? বা অন্যকথায় আমাদের কাব্যিক মন তাকে কি সাজে দেখতে চায় এইটার কোনপ্রকার পরোয়া কি সে করে?

বেশ, পৃথিবী গ্রহে গড়ে প্রতি ৩৭ সেকেন্ডে মৃত্যুবরণ করছে আমাদের প্রজাতির অন্তত একজন সদস্য। এইসব মৃত্যুর বেশীরভাগের বিপর্যস্ত করে একাধিক প্রাণ কেননা মানুষ একটি পারিবারিক ও সামাজিক জীব। প্রতি ৩৭ সেকেন্ডে একজন করে করে যাচ্ছে কল্পনা করুন, আপনার চায়ের প্রতিটি চুমুকের সাথে সাথে বেজে উঠছে কান্নার রোল পিতা-মাতা-স্ত্রী ও সন্তানদের। প্রকৃতি মাতা তার আঁচলের আড়ালে নিয়ে রক্ষা করেনি এখন পর্যন্ত একটি কলেরায় মৃত্যুবরণ করা প্রাণও, ইনফেকশনের ৬ থেকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে যারা মরে গিয়েছিলো অসন্মানজনকভাবে। আর বনের মধ্যে সুন্দর সুন্দর বাঘ আর সিংহ ধরে ধরে খাচ্ছে হরিণ-যিব্রা কে। এমনকি আমরা মানুষও ধরে ধরে খাই মাঠে চড়ে বেড়ানো নিষ্পাপ-নির্দোষ গরু-ছাগল-ভেড়া-শূকর পালকে। এইটাও কল্পনা করুন, মায়াবী চোখের একটি নিরীহ ম্যামাল চড়ে বেড়াচ্ছে মাঠে completely minding its own business, আমরা কি করি- আমরা পাঁচ-সাতজন মিলে গিয়ে জাপটে ধরে গলা কেটে হত্যা করি সেটাকে; তার মৃত্যুর জন্যও অপেক্ষা করিনা, তার সকল যন্ত্রনার অবসানের আগেই চাকু দিয়ে ছিলতে থাকি তার চামড়া। আর আকাশ-ভর্তি চন্দ্র সুর্য তারা! বেশ, প্রোভাইডেড দ্যাট মহাবিশ্বে গ্যালাক্সির সংখ্যা ভার্চুয়ালি অসীম, এই মুহুর্তে মহাবিশ্বের কোথাও না কথাও বিপুল আক্রোশে বিষ্ফোরিত হচ্ছে একাধিক সুপারনোভি, ভয়ঙ্কর গামা রে বার্স্টে বিপর্যস্ত হচ্ছে সম্পুর্ণ গ্যালাক্সিরই একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। প্রতি ৫০ মিলিয়ন বছরে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছে একটি ভয়ানক উল্কা বা ধুমকেতু যা কিনা ঘটাচ্ছে সর্বোচ্চ ৯০% প্রজাতির বিলুপ্তি, যার সর্বশেষ নিদর্শন আজ থেকে ৬৫ মিলিয়ন বছর আগেকার কে-টি মাস এক্সটিঙ্কশন। এই তথ্যগুলা প্রকৃতিকে কি ঠিক মাতার স্থানে অধিষ্ঠিত করে, নাকি অধিষ্ঠিত করে একটি ডাইনীর স্থানে?

তাহলে প্রকৃতি কি? মাতা না ডাইনী? ওয়েল দুইটার কোনটাই না, প্রকৃতি হচ্ছে ইনডিফ্রেন্ট। চরম নিঃস্পৃহ, নিরাবেগ ও পরম নিরপেক্ষ বলে যদি কোন কিছু থেকে থাকে সেটি হচ্ছে প্রকৃতি। প্রকৃতি একফোঁটাও কেয়ার করে না তাকে আমরা মাতা বলে ডাকছি না কি লাথি দিচ্ছি। প্রকৃতির যদি প্রাণ থেকে থাকতো তাহলে তার দৃষ্টিতে আমাদের সম্পুর্ণ ভার্গো সুপারক্লাস্টারটি হতো ততোটাই তুচ্ছ ও নগন্য, যতোটা তুচ্ছ ও নগন্য আমাদের দৃষ্টিতে কিনা ব্যাক্টেরিয়া কিংবা গুবরে পোকা। মানুষের এই চুলপাকনা মনোভাব যে সে বাস্তবতার বিয়াই লাগে, সে বাস্তবতার অনেক গুরুত্বপুর্ণ একটা আত্নীয় যার স্বার্থ কিনা বাস্তবতা রক্ষা করে চলতে যাচ্ছে- আমাদের সমাজের প্রচুর ক্ষতি করেছে এবং রিটার্ড করেছে অগ্রগতি, করাপ্ট করেছে ব্যক্তিমানুষের জাজমেন্ট, হাইপারকাব্যিকতা র ভুষণে লালন করেছে কুসংষ্কার এবং অনুতপাদনশীলতা। ফলে আমি প্রকৃতি বা নেইচারের এই নোশনটারই বিরোধীতা করি; নেইচার বা প্রকৃতি নামক একটি স্নেহভাবাপন্ন বিশেষণে একে বিশেষায়িত না করে বিশেষ্যায়িত করি রিয়ালিটি বা বাস্তবতা নামক একটি নিস্পৃহ নামবাচক বিশেষ্যে।

লিখেছেন Arnob Darnel

No comments:

Post a Comment