সামগ্রিকভাবে বিশ্বকে কিভাবে ধারণা করতে হবে এই প্রশ্নে আমাদের মনে আসে তা
হচ্ছে এইঃ স্থান (এবং কাল) প্রসঙ্গে,বিশ্ব অসীম। সর্বত্র নক্ষত্র রয়েছে যার
ফলে পদার্থের ঘনত্ব অত্যন্ত বিষমভাবে বিস্তারিত হলেও সর্বত্র সমান। এই
ধারণা নিউটনের তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নিউটনের তত্ত্ব
দাবি করে যে,বিশ্বে এক ধরনের কেন্দ্র আছে যেখানে নক্ষত্রের ঘনত্ব সবচেয়ে
বেশি এবং কেন্দ্র থেকে যতই বাইরের দিকে সরা যাবে নক্ষত্রগুচ্ছের ঘনত্ব ততই
কমতে থাকবে এবং পরিশেষে বহুদূরে অসীম শূন্য অঞ্চল পাওয়া যাবে। এই ধারনা
প্রকৃতিগত ভাবেই সন্তোষজনক নয়।
এর ফলে সীদ্ধান্তগ্রহণ করতে
হয়,নক্ষত্ররাজি থেকে বিচ্ছুরিত আলো এবং নক্ষত্র নিজেরাও অসীম শূন্যালোকে
ছুটে চলছে। আর কখনো ফেরা বা প্রকৃতির অন্য বস্তুর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা
নেই। এই ধরনের সসীম বস্তুজগত ধীরে ধীরে অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়ার কথা।
এই সংকট থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে সেলিগার নিউটনের তত্ত্বে সংশোধনের
প্রস্তাব করেছিলেন যে বৃহৎদূরত্বসমূহের জন্য দুইটি ভরের মধ্যবর্তী আকর্ষণী
বল ব্যস্ত-বর্গ নিয়মের হিসাবের চেয়ে অধিকতর দ্রুতহারে কমতে থাকে। একইভাবে
সর্বত্র এমনকি অসীম দূরত্বেও পদার্থের গড় ঘনত্ব সমান হওয়া সম্ভব,অসীম
পরিমানে বৃহৎ মহাকর্ষ ক্ষেত্রসমূহ সৃষ্টি না করে। এইভাবে আমরা সেই
অসন্তোষজনক ধারণা থেকে মুক্তি লাভ করি যে,জড় বিশ্বের 'কেন্দ্র' ধরনের কিছু
একটা থাকতে হবে।
আলবার্ট আইনস্টাইন
গ্রন্থঃ Relativitaetstheorie
No comments:
Post a Comment